Friday , August 23 2019
Home / ধর্ম ও দর্শন / আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরের অবস্থা কেমন?

আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরের অবস্থা কেমন?

বিশ্বের সেরা ২০০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে আরব বিশ্বের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম নেই। অথচ বিশ্বের সবচেয়ে পুরনো বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে মরক্কোর ফেজে।গণিত, জ্যোতির্বিদ্যা, ওষুধ, নির্মাণকৌশল, দর্শন ইত্যাদি বিষয়ে আরবদের বিরাট অবদান থাকলেও এখন এই সূচক নিম্নদিকে। ২০১৭ সালে ক্ষুদ্র গ্রিসে যত বই প্রকাশিত হয়েছে সমগ্র আরব বিশ্ব মিলিয়ে তত বই প্রকাশিত হয়নি। এটি খুবই ভাবনার বিষয়। তবে মিসরের বিশেষজ্ঞ আল আজহার, জর্দান, আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও কাতারে উন্নতমানের লেখাপড়া শিক্ষা দেয়া হচ্ছে। তথাপি সামগ্রিকভাবে আরব বিশ্বে লেখাপড়ার মান সন্তোষজনক নয়। ইউনেস্কোর তথ্যে প্রকাশ আরব বিশ্বে এখন বিভিন্নভাবে ১.৬ মিলিয়ন নতুন শিক্ষক দরকার। নতুবা অচিরেই সার্বজনীন শিক্ষা প্রদান দুরূহ হয়ে পড়বে। ২০৩০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ৩.৩ মিলিয়নে উন্নীত হবে। মানসম্পন্ন শিক্ষক গড়ে তোলা না গেলে মানসম্পন্ন লেখাপড়া মুখ থুবড়ে পড়বে।আরব বিশ্বে ১১টি লড়াই-সঙ্ঘাত চলছে। এর ফলে শিক্ষা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শিশুরা স্কুলে যেতে পারছে না। সেনা চেকপয়েন্ট অনেক সময় ছাত্রছাত্রীদের স্কুলে যেতে দিচ্ছে না। সিরিয়ার শিশুরা বর্ণমালা শিখেই লেখাপড়া শেষ করতে বাধ্য হচ্ছে। ইরাকেও একই অবস্থা। আরব বিশ্বের অনেক স্থানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জনসংখ্যা যৌবনে পৌঁছেও লেখাপড়া শেখার সুযোগ পায়নি। যারা যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছে, এটি তাদের সবচেয়ে বড় পাওয়া। এ অবস্থায় ভবিষ্যতে মূর্খের সাগরে ভাসবে আরব বিশ্বের। আরব বিশ্ব জিডিপির ৫.৫ শতাংশের বেশি শিক্ষার জন্য খরচ করে না। আরবি প্রবাদে আছে- মূর্খতা সবচেয়ে বড় দারিদ্র্য। তথাপি আরব বিশ্বে শিক্ষার জন্য কেউ তেমন মাথা ঘামাচ্ছে না।ধনী ও মধ্য আয়ের আরব পরিবারের ৯-১০ বছরের শিশুদের ‘রিডিং স্কিলে’র এক জরিপে দেখা গেছে, তাদের দক্ষতা সর্ব নিম্নে। ক্লাসিক্যাল আরবি ও আধুনিক স্ট্যান্ডার্ড আরবি ছোটদের মাথা গুলিয়ে দিচ্ছে। দক্ষতা অর্জনের জন্য এখানে কাজ করা দরকার এবং ইংরেজির ওপর আরো জোর দেয়া প্রয়োজন। আবার কোথাও, যেমন আফ্রিকার কিছু আরব দেশে, ফরাসি ভাষার ওপর জোর দেয়া হয়। এ ভাষায় বিশ্বে কথা বলে ১৩০ মিলিয়ন আর ইংরেজি অপব্যবহার করে দুই বিলিয়িন। আরব বিশ্বে শিক্ষার উন্নয়নের জন্য কোনো ‘সিলভার-বুলেট’ সমাধান নেই। পুরো ব্যবস্থাকে জরুরিভাবে ঢেলে সাজানো দরকার। ২০১৮ সালের সর্বশেষ রেটিংয়ে আরব বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয় সৌদি আরবের কিং আবদুল আজিজ বিশ্ববিদ্যালয়, দ্বিতীয় স্থানে আরব আমিরাতের খলিফা বিশ্ববিদ্যালয়, তৃতীয় কাতার বিশ্ববিদ্যালয়, চতুর্থ জর্দান বিশ্ববিদ্যালয়। আগেই বলা হয়েছে, বিশ্বের ২০০টি সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে এগুলোর একটির নামও নেই। বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড প্রথম এবং দ্বিতীয় ক্যামব্রিজ; তিন নম্বরে আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ার ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি।মিসরের বিশ্বব্যাপী ইসলামকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করার জন্য আল আজহার এখন কাজ করছে। মিসরের ইসমাইলি শিয়া ফাতেমি বংশের শাসক আল আজহার মাদরাসা বানিয়েছিলেন। এ বংশে ফাতেমা রা:, আল্লাহর রাসূলের সা: কন্যা ও আলী রা:-এর স্ত্রী, ফাতেমা আজ জাহার (আলো, আলোর ছটা, আলোর বিকিরণ)-এর নামে ডাকা হতো। ফাতেমি খলিফারা সবসময় এখানে লেখাপড়া ও ধর্মীয় আলোচনা করাকে উৎসাহ জুগিয়েছেন। বলা হয়, আল আজহারকে এমন করে গড়ে তোলা হয়েছে, যেখানে সমাজ গঠনে ইসলামের প্রভাব সঠিকভাবে মূল্যায়িত হয় এবং মানবাধিকার ও উদারতাবাদের চরিত্র সঠিকভাবে বোঝা যায়।আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়, আরবিতে ‘জামিয়াহ আল আজহার’ এখন সুন্নি ইসলামের সেরা শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে বিবেচ্য। ফাতেমি খিলাফতের সময় ৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে কুরআন ও ইসলামি আইন শিক্ষার জন্য এই শিক্ষাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। বর্তমানে এখানে সেক্যুলার বিষয়াদিও কারিকুলামে সন্নিবেশিত। শিক্ষাবিদরা মনে করেন, পাঠ্যসূচি সংশোধন করা প্রয়োজন ও গুরুত্বপূর্ণ। আল আজহারকে ‘লিবারেলিজমের’ ধাঁচে ফেলার চেষ্ট চলেছে বিভিন্ন সময়। এ কারণেও শিক্ষার সার্বিক মান কমে গেছে বলে পশ্চিমা শিক্ষাবিদেরা মনে করেন। তবে ধর্মীয় শিক্ষাও এ অভিযোগ থেকে বাদ যায়নি।

বিশ্বের সেরা ২০০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে আরব বিশ্বের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম নেই। অথচ বিশ্বের সবচেয়ে পুরনো বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে মরক্কোর ফেজে।

গণিত, জ্যোতির্বিদ্যা, ওষুধ, নির্মাণকৌশল, দর্শন ইত্যাদি বিষয়ে আরবদের বিরাট অবদান থাকলেও এখন এই সূচক নিম্নদিকে। ২০১৭ সালে ক্ষুদ্র গ্রিসে যত বই প্রকাশিত হয়েছে সমগ্র আরব বিশ্ব মিলিয়ে তত বই প্রকাশিত হয়নি। এটি খুবই ভাবনার বিষয়। তবে মিসরের বিশেষজ্ঞ আল আজহার, জর্দান, আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও কাতারে উন্নতমানের লেখাপড়া শিক্ষা দেয়া হচ্ছে। তথাপি সামগ্রিকভাবে আরব বিশ্বে লেখাপড়ার মান সন্তোষজনক নয়।

ইউনেস্কোর তথ্যে প্রকাশ আরব বিশ্বে এখন বিভিন্নভাবে ১.৬ মিলিয়ন নতুন শিক্ষক দরকার। নতুবা অচিরেই সার্বজনীন শিক্ষা প্রদান দুরূহ হয়ে পড়বে। ২০৩০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ৩.৩ মিলিয়নে উন্নীত হবে। মানসম্পন্ন শিক্ষক গড়ে তোলা না গেলে মানসম্পন্ন লেখাপড়া মুখ থুবড়ে পড়বে।

আরব বিশ্বে ১১টি লড়াই-সঙ্ঘাত চলছে। এর ফলে শিক্ষা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শিশুরা স্কুলে যেতে পারছে না। সেনা চেকপয়েন্ট অনেক সময় ছাত্রছাত্রীদের স্কুলে যেতে দিচ্ছে না। সিরিয়ার শিশুরা বর্ণমালা শিখেই লেখাপড়া শেষ করতে বাধ্য হচ্ছে। ইরাকেও একই অবস্থা। আরব বিশ্বের অনেক স্থানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জনসংখ্যা যৌবনে পৌঁছেও লেখাপড়া শেখার সুযোগ পায়নি। যারা যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছে, এটি তাদের সবচেয়ে বড় পাওয়া। এ অবস্থায় ভবিষ্যতে মূর্খের সাগরে ভাসবে আরব বিশ্বের। আরব বিশ্ব জিডিপির ৫.৫ শতাংশের বেশি শিক্ষার জন্য খরচ করে না। আরবি প্রবাদে আছে- মূর্খতা সবচেয়ে বড় দারিদ্র্য। তথাপি আরব বিশ্বে শিক্ষার জন্য কেউ তেমন মাথা ঘামাচ্ছে না।

ধনী ও মধ্য আয়ের আরব পরিবারের ৯-১০ বছরের শিশুদের ‘রিডিং স্কিলে’র এক জরিপে দেখা গেছে, তাদের দক্ষতা সর্ব নিম্নে। ক্লাসিক্যাল আরবি ও আধুনিক স্ট্যান্ডার্ড আরবি ছোটদের মাথা গুলিয়ে দিচ্ছে। দক্ষতা অর্জনের জন্য এখানে কাজ করা দরকার এবং ইংরেজির ওপর আরো জোর দেয়া প্রয়োজন। আবার কোথাও, যেমন আফ্রিকার কিছু আরব দেশে, ফরাসি ভাষার ওপর জোর দেয়া হয়। এ ভাষায় বিশ্বে কথা বলে ১৩০ মিলিয়ন আর ইংরেজি অপব্যবহার করে দুই বিলিয়িন। আরব বিশ্বে শিক্ষার উন্নয়নের জন্য কোনো ‘সিলভার-বুলেট’ সমাধান নেই। পুরো ব্যবস্থাকে জরুরিভাবে ঢেলে সাজানো দরকার।

২০১৮ সালের সর্বশেষ রেটিংয়ে আরব বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয় সৌদি আরবের কিং আবদুল আজিজ বিশ্ববিদ্যালয়, দ্বিতীয় স্থানে আরব আমিরাতের খলিফা বিশ্ববিদ্যালয়, তৃতীয় কাতার বিশ্ববিদ্যালয়, চতুর্থ জর্দান বিশ্ববিদ্যালয়। আগেই বলা হয়েছে, বিশ্বের ২০০টি সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে এগুলোর একটির নামও নেই। বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড প্রথম এবং দ্বিতীয় ক্যামব্রিজ; তিন নম্বরে আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ার ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি।

মিসরের বিশ্বব্যাপী ইসলামকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করার জন্য আল আজহার এখন কাজ করছে। মিসরের ইসমাইলি শিয়া ফাতেমি বংশের শাসক আল আজহার মাদরাসা বানিয়েছিলেন। এ বংশে ফাতেমা রা:, আল্লাহর রাসূলের সা: কন্যা ও আলী রা:-এর স্ত্রী, ফাতেমা আজ জাহার (আলো, আলোর ছটা, আলোর বিকিরণ)-এর নামে ডাকা হতো। ফাতেমি খলিফারা সবসময় এখানে লেখাপড়া ও ধর্মীয় আলোচনা করাকে উৎসাহ জুগিয়েছেন। বলা হয়, আল আজহারকে এমন করে গড়ে তোলা হয়েছে, যেখানে সমাজ গঠনে ইসলামের প্রভাব সঠিকভাবে মূল্যায়িত হয় এবং মানবাধিকার ও উদারতাবাদের চরিত্র সঠিকভাবে বোঝা যায়।

আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়, আরবিতে ‘জামিয়াহ আল আজহার’ এখন সুন্নি ইসলামের সেরা শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে বিবেচ্য। ফাতেমি খিলাফতের সময় ৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে কুরআন ও ইসলামি আইন শিক্ষার জন্য এই শিক্ষাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। বর্তমানে এখানে সেক্যুলার বিষয়াদিও কারিকুলামে সন্নিবেশিত। শিক্ষাবিদরা মনে করেন, পাঠ্যসূচি সংশোধন করা প্রয়োজন ও গুরুত্বপূর্ণ। আল আজহারকে ‘লিবারেলিজমের’ ধাঁচে ফেলার চেষ্ট চলেছে বিভিন্ন সময়। এ কারণেও শিক্ষার সার্বিক মান কমে গেছে বলে পশ্চিমা শিক্ষাবিদেরা মনে করেন। তবে ধর্মীয় শিক্ষাও এ অভিযোগ থেকে বাদ যায়নি।

About admin

Check Also

বেসরকারি হজ প্যাকেজ মূল্য ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৮০০ টাকা

চলতি বছরের জন্য বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এবার হজের সর্বনিম্ন খরচ জনপ্রতি ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৮০০ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *